• শনিবার, ০৭ মার্চ ২০২৬, ১২:৩৪ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম:
নির্দেশ বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের নিজ দপ্তরে লাইট ও এসির মাত্রা কমালেন প্রধানমন্ত্রী কাঞ্চন পৌরবাসীর প্রত্যাশা—মেয়র হিসেবে দেখতে চান অ্যাডভোকেট আমিরুল ইসলাম ইমনকে ঈদের ছুটি বেড়ে ৭ দিন, ১৮ মার্চ ছুটির সিদ্ধান্ত সরকারের আসিফ মাহমুদের ব্যাংক হিসাব তলব হঠাৎ ভূমি অফিসে প্রতিমন্ত্রী, আধাঘণ্টা অপেক্ষার পর খোলা হলো তালা সার্বভৌমত্ব রক্ষায় আনসারকে সর্বোচ্চ প্রস্তুতি রাখার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা খামেনির ছেলে মোজতবা রূপগঞ্জে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে উচ্ছেদ অভিযান দুই কমিশনারসহ দুদক চেয়ারম্যানের পদত্যাগ চালের দাম বৃদ্ধির খবর শুনে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

কেরানীগঞ্জে উম্মাল কুরা মাদ্রাসা ভবনে বিস্ফোরণের রহস্য উদঘাটন, গ্রেফতার ৩ 

বনি আমিন (ঢাকা) কেরানীগঞ্জঃ / ১৯৪ পাঠক ভিউ
আপডেট সময় : রবিবার, ২৮ ডিসেম্বর, ২০২৫

বনি আমিন (ঢাকা) কেরানীগঞ্জঃ ঢাকা জেলার দক্ষিণ কেরাণীগঞ্জ থানাধীন হাসনাবাদ হাউজিং এলাকায় অবস্থিত উম্মাল কুরা ইন্টারন্যাশনাল মাদ্রাসা ভবনে সংঘটিত বিস্ফোরণের ঘটনার রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে তিনজন’কে গ্রেফতার করা হয়েছে। জেলা পুলিশ প্রেস ব্রিফিংয়ে জানানো হয়, গত ২৬ ডিসেম্বর তারিখ সকাল আনুমানিক ১০টা হাসনাবাদ হাউজিং এলাকায় উম্মাল কুরা ইন্টারন্যাশনাল মাদ্রাসা ভবনে একটি বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে।

খবর পেয়ে তাৎক্ষণিক ভাবে দক্ষিণ কেরাণীগঞ্জ থানা পুলিশের একটি টিম ঘটনাস্থলে পৌঁছে দেখতে পায় যে, মাদ্রাসার দুটি কক্ষের দেয়াল ও ছাদের কিছু অংশ বিস্ফোরণে মারাত্মক ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

সরেজমিনে তদন্তে জানা যায়, শেখ আল আমিন (৩২) পিতা—আব্দুর রকিত শেখ, মাতা—নুরজাহান বেগম, স্থায়ী ঠিকানা—সারুলিয়া কুল্লা (রাজপট), ডাকঘর—গাওলা বাজার, থানা—মোল্লাহাট, জেলা—বাগেরহাট; তিনি ২০২২ সাল থেকে উক্ত ভবনের দুটি কক্ষ ভাড়া নিয়ে আনুমানিক ২৫–৩০ জন ছাত্র-ছাত্রী নিয়ে উম্মাল কুরা ইন্টারন্যাশনাল মাদ্রাসা পরিচালনা করে আসছিলেন। ভবনের অপর দুটি কক্ষে তিনি নিজ পরিবারসহ বসবাস করতেন।

ঘটনাস্থলে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে তল্লাশি চালিয়ে পুলিশ রাসায়নিক দ্রব্যাদি, চারটি ককটেল সদৃশ বস্তু, একটি ল্যাপটপ ও দুটি মনিটর উদ্ধার করে। ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনায় সিআইডির ক্রাইমসিন ইউনিট, এন্টি টেররিজম ইউনিট (ATU) এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অন্যান্য ইউনিট ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে তদন্ত কার্যক্রমে অংশ নেয়।

বিস্ফোরণের পর শেখ আল আমিনের স্ত্রী আছিয়া (২৮)—পিতা ইউনুছ মোল্লা, মাতা কুলসুম বেগম, স্বামী শেখ আল আমিন, স্থায়ী ঠিকানা সারুলিয়া বারইগাতী, ডাকঘর গাওলা বাজার, থানা মোল্লাহাট, জেলা বাগেরহাট—কে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়। পুলিশ হেফাজতে নিয়ে তাকে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।

জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে আছিয়া (২৮) প্রদত্ত তথ্যের ভিত্তিতে তার বড় ভাইয়ের স্ত্রী ইয়াছমিন আক্তার (৩০)—পিতা নুরুল ইসলাম, স্বামী হারুন অর রশিদ, ঠিকানা মাদ্রাসাঘাট, থানা মোল্লাহাট, জেলা বাগেরহাট—কে হাসনাবাদ এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়। পরবর্তীতে ২৭ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখ ঢাকার বাসাবো এলাকা থেকে আসমানী খাতুন ওরফে আসমা (৩৪)-কে তার নিজ বাসা হতে গ্রেফতার করা হয়।

পুলিশি অনুসন্ধান ও অধিকতর জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, ঘটনার মূল অভিযুক্ত শেখ আল আমিন বর্তমানে পলাতক। তিনি এর আগেও ২০১৭ এবং ২০২০ সালে গ্রেফতার হয়েছিলেন এবং তার বিরুদ্ধে ঢাকা ও ঢাকার আশপাশের বিভিন্ন থানায় মোট সাতটি মামলা রয়েছে। এছাড়া গ্রেফতারকৃত আসমানী খাতুন ওরফে আসমার বিরুদ্ধেও দেশের বিভিন্ন থানায় একাধিক মামলা রয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।

ঢাকা জেলা পুলিশ সুপার মোঃ মিজানুর রহমান জানায়, পলাতক শেখ আল আমিনকে গ্রেফতারের জন্য অভিযান অব্যাহত রয়েছে এবং উদ্ধারকৃত আলামত পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে বিস্ফোরণের প্রকৃত উদ্দেশ্য ও এর সঙ্গে জড়িত অন্যান্যদের শনাক্তে তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

বিস্তারিত...
Link Copied!