কেরানীগঞ্জ প্রতিনিধি: মেয়ের আত্মহত্যার প্ররোচনাকারী ও নির্যাতনকারী স্বামী জাহিদুল ইসলাম ও শাশুড়ী জাহানা বেগমকে দ্রুত গ্রেফতার এবং বিচার দাবীতে সংবাদ সম্মেলন করেছে ভুক্তভোগী পরিবার। বৃহস্পতিবার (৪ ডিসেম্বর ২০২৫ইং) দুপুরে, বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী ও গৃহবধূ মৃত সাদিয়া আক্তার সিফার (২১) বাবার বাড়ি কেরানীগঞ্জ এর রোহিতপুর ইউনিয়নের সোনাকান্দা গ্রামের এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
সংবাদ সম্মেলনে মৃত সিফার মা দিপা জানান, ২০২২ সালে মেয়ে ভালোবেসে বিয়ে করেন পার্শ্ববর্তী শাক্তা ইউনিয়নের কুলচর গ্রামের মৃত শাহাদাত হোসেনের ছেলে জাহিদকে। কিন্তু বিয়ের পর থেকে স্বামী এবং শাশুড়ী যৌতুক,দামী উপঢৌকন, টাকা-পয়সাসহ বিভিন্ন দাবিতে অত্যাচার করতো সিফাকে। এরই অংশ হিসেবে গত ৩১ অক্টোবর কথা-কাটাকাটির জেরে স্বামী এবং শাশুড়ী তাকে মারধর করে স্থানীয় লোকজনের উপস্থিতি মায়ের বাড়ি পাঠিয়ে দেয়।
সর্বশেষ গত ১৯ নভেম্বর বুধবার রাত ১০.০৩ মিনিটে স্বামীর সাথে কথা বলে মায়ের বাড়ির ডাইনিং রুমে গিয়ে দরজা বন্ধ করে গলায় ফাঁস নেয়। এসময় পরিবারের লোকজনসহ স্থানীয়’রা দরজা ভেঙে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে সেখানে তার মৃত হয়। সিফার মায়ের দাবী স্বামী শাশুড়ীর কারণের তার মেয়ে আত্মহত্যা করেছে। মেয়ে ডাইরিতে তা লিখেও গেছে, আমরা দ্রুত তাদের গ্রেফতার ও বিচারের দাবি জানাই।
এবিষয়ে কথা বলতে চাইলে স্বামীর বাড়িতে গিয়ে তালাবদ্ধ অবস্থায় পওয়া যায়। তবে তার স্বজনরা বিষয়টি নিয়ে ভুক্তভোগীর পরিবারের সাথে যোগাযোগ করছেন বলে প্রতিবেদককে জানান। এব্যাপারে কেরানীগঞ্জ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মনিরুল হক ডাবলু বিডিসি ক্রাই বার্তাকে জানান, এব্যাপারে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। ময়না তদন্তের রিপোর্ট অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে। তাছাড়া ভিকটিম কোন চিরকুট রেখে গেলে সেটিও পর্যালোচনা করা হবে।