• মঙ্গলবার, ১০ মার্চ ২০২৬, ০৩:১৪ অপরাহ্ন
শিরোনাম:
অসুস্থ অধ্যাপক মুজিবুর রহমানকে দেখতে হাসপাতালে–অধ্যাপক এবিএম ফজলুল করীম কম্বোডিয়ায় প্রবাসী বাংলাদেশিদের ‘অভিভাবক’ মামুন: মানবতার বন্ধু এখন অপশক্তির চোখের কাঁটা টঙ্গীতে রিয়েল এস্টেট ব্যবসায়ী কামরুজ্জামানকে হত্যাচেষ্টা আধুনিক সংবাদের ২য় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে দোয়া ও ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত হাদির হত্যাকারীদের ১৪ দিনের রিমান্ড জঙ্গল সলিমপুরে যৌথ বাহিনীর অভিযান শুরু সিরাজদিখানের মধ্যপাড়ায় গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যু সিরাজদিখানে মাদক ব্যবসায়ী ইয়াবা ট্যাবলেট সহ গ্রেফতার জুলাই সনদ বাস্তবায়নে টালবাহানা মেনে নেওয়া হবে না: অধ্যাপক এবিএম ফজলুল করীম প্রতিবেশী দেশে আর হামলা করবে না ইরান: প্রেসিডেন্ট

পাকিস্তানে এক দোকান থেকে ৩০ জনের অগ্নিদগ্ধ মরদেহ উদ্ধার

সংবাদদাতা / ২২ পাঠক ভিউ
আপডেট সময় : বৃহস্পতিবার, ২২ জানুয়ারী, ২০২৬

অনলাইন  ডেস্ক: একটি ভয়াবহ ঘটনায় বুধবার করাচির গুল প্লাজার ধ্বংসস্তূপ থেকে উদ্ধারকর্মীরা অন্তত ৩০টি মরদেহ উদ্ধার করেছেন। করাচি সাউথের ডেপুটি ইন্সপেক্টর জেনারেল (ডিআইজি) সৈয়দ আসাদ রাজা ডন পত্রিকাকে জানান, মেজানাইন ফ্লোরে অবস্থিত ‘দুবাই ক্রোকারি’ নামের একটি দোকান থেকে ৩০ জন মানুষের দেহাবশেষ উদ্ধার করা হয়েছে।তিনি বলেন, ‘এর আগে সেদিন আরো তিনটি মরদেহ পাওয়া যায়, ফলে মৃতের সংখ্যা ২৮ থেকে বেড়ে ৩১ হয়।

পরে ওই পুড়ে যাওয়া দোকান থেকে আরো মরদেহ পাওয়ায় মোট মৃতের সংখ্যা আনুমানিক ৬১ জনে পৌঁছেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।’ তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, ‘ডিএনএ রিপোর্ট না পাওয়া পর্যন্ত চূড়ান্তভাবে মৃতের সংখ্যা নিশ্চিত করা যাবে না। গত ১৭ জানুয়ারি শনিবার গুল প্লাজায় আগুনের সূত্রপাত হয়। শুষ্ক আবহাওয়ার কারণে মুহূর্তের মধ্যেই আগুন পুরো মার্কেটজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে। আগুনের তীব্রতা এতটাই ভয়াবহ ছিল যে তা নিয়ন্ত্রণে আনতে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীদের টানা ২৪ ঘণ্টা সময় লাগে।

রাজা জানান, নিখোঁজ ব্যক্তিদের স্বজন ও দোকানদাররা আগেই জানিয়েছিলেন, দোকানটিতে অনেক মানুষ থাকার সম্ভাবনা ছিল। তিনি আরো বলেন, ‘শেষ যোগাযোগ অনুযায়ী ভুক্তভোগীরা মনে করেছিলেন তারা নিরাপদ থাকবেন এবং আগুন নিয়ন্ত্রণে চলে আসবে। কিন্তু অপেক্ষা করার সময় ধোঁয়ায় শ্বাসরোধ হয়ে তাদের মৃত্যু হয়।’আগুনের ঘটনায় বোমা নিষ্ক্রিয়কারী দল আসার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘প্রাথমিক তদন্তে এখন পর্যন্ত নাশকতার কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।এলাকার এক বাসিন্দা রশীদ ডন-কে জানান, বিয়ের মৌসুম উপলক্ষে দোকানটিতে বিশেষ ছাড় ঘোষণা করা হয়েছিল। এ কারণে দোকানটি রাত ২টা পর্যন্ত খোলা রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, যদিও সাধারণত এটি রাত ১০টায় বন্ধ হয়ে যায়।

শনিবার রাতে গুল প্লাজায় আগুন লাগে। এমএ জিন্নাহ রোডে অবস্থিত এই মার্কেটের আগুন ২৪ ঘণ্টার বেশি সময় পর রবিবারে নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। তবে সোমবার ধ্বংসস্তূপের ভেতর থেকে আবার আগুন জ্বলে ওঠায় পুনরায় আগুন নেভানোর কাজ শুরু করতে হয়।আগুনে প্লাজার কিছু অংশ ধসে পড়ে। ভবনটি ছিল তিনতলা বিশিষ্ট এবং এতে প্রায় ১ হাজার ২০০টি দোকান ছিল। সিন্ধু সরকার গঠিত তদন্ত কমিটির প্রধান ও করাচি কমিশনার সৈয়দ হাসান নকভি আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত প্লাজাটি পরিদর্শন করেন। তার সঙ্গে ছিলেন কমিটির সদস্য ও করাচির অতিরিক্ত আইজি আজাদ খান। সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় কমিশনার বলেন, তদন্ত এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। তিনি জানান, পাশের রিমপা প্লাজাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তবে সেটিকে এখনো ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করা হয়নি।

তিনি দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, ভবনগুলোর অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা আন্তর্জাতিক মান অনুযায়ী ছিল না। অতিরিক্ত আইজি আজাদ খানও জানান, এখন পর্যন্ত কোনো ধরনের নাশকতার প্রমাণ মেলেনি।
তিনি বলেন, ‘আমরা ঘটনাটি গভীরভাবে তদন্ত করছি। করাচি মিউনিসিপ্যাল করপোরেশনের (কেএমসি) জাফর খান জানান, প্রচণ্ড তাপ থাকা সত্ত্বেও ফায়ার সার্ভিসের দল এখনো সেখানে কাজ করেছে। তিনি বলেন, ভবনের একটি অংশ পরিষ্কার করা হয়েছে এবং বাকি দুটি অংশ পরিষ্কারের কাজ চলছে। তিনি প্রতিশ্রুতি দেন, ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়া মরদেহ উদ্ধারের চেষ্টা করা হবে। যেখানে ভবনের কাঠামো এখনো স্থিতিশীল, সেখানে দমকলকর্মীদের পাঠানো হচ্ছে।

তিনি আরো বলেন, আগুন লাগার ঘটনায় ফায়ার ব্রিগেড দেরিতে পৌঁছেছে—এমন অভিযোগ সঠিক নয়। শনিবার রাতে আগুনের খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই তিনটি ফায়ার টেন্ডার পাঠানো হয়। তিনি অভিযোগ করেন, কিছু দোকানদার বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করেন এবং নিজেদের দোকান বাঁচাতে দমকলকর্মীদের কাছ থেকে পাইপ কেড়ে নেন। ভবনের ছাদের দরজা তালাবদ্ধ ছিল, ফলে মানুষ সেখানে যেতে পারেনি। আগুন লাগার সময় বাজার বন্ধ হওয়ার প্রস্তুতি চলছিল, তাই সব বের হওয়ার পথ বন্ধ ছিল।

সূত্র : ডন


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

বিস্তারিত...
Link Copied!