• মঙ্গলবার, ১০ মার্চ ২০২৬, ০৩:৩৫ অপরাহ্ন
শিরোনাম:
অসুস্থ অধ্যাপক মুজিবুর রহমানকে দেখতে হাসপাতালে–অধ্যাপক এবিএম ফজলুল করীম কম্বোডিয়ায় প্রবাসী বাংলাদেশিদের ‘অভিভাবক’ মামুন: মানবতার বন্ধু এখন অপশক্তির চোখের কাঁটা টঙ্গীতে রিয়েল এস্টেট ব্যবসায়ী কামরুজ্জামানকে হত্যাচেষ্টা আধুনিক সংবাদের ২য় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে দোয়া ও ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত হাদির হত্যাকারীদের ১৪ দিনের রিমান্ড জঙ্গল সলিমপুরে যৌথ বাহিনীর অভিযান শুরু সিরাজদিখানের মধ্যপাড়ায় গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যু সিরাজদিখানে মাদক ব্যবসায়ী ইয়াবা ট্যাবলেট সহ গ্রেফতার জুলাই সনদ বাস্তবায়নে টালবাহানা মেনে নেওয়া হবে না: অধ্যাপক এবিএম ফজলুল করীম প্রতিবেশী দেশে আর হামলা করবে না ইরান: প্রেসিডেন্ট

ফ্যাসিস্ট আমলে পদোন্নতি না পেয়ে নিপীড়নের শিকার পুলিশ কর্মকর্তারা, রহস্যজনক বদলি–বরখাস্তে প্রশ্নবিদ্ধ?

নিজস্ব সংবাদদাতাঃ / ২০১ পাঠক ভিউ
আপডেট সময় : শনিবার, ১৩ ডিসেম্বর, ২০২৫

নিজস্ব সংবাদদাতাঃ অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের ১৫ মাস পার হলেও বঞ্চিত ও পেশাদার পুলিশ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে প্রভাবশালী মহলের ষড়যন্ত্র অব্যাহত রয়েছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও পুলিশ সদর দফরের নজরের বাইরে কয়েকজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা আওয়ামী লীগের আমলে পদোন্নতি বঞ্চিত কর্মকর্তাদের টার্গেট করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। ১৮ বছর পদবঞ্চনার শিকার কর্মকর্তাদের কার্যকর ভূমিকা থেকে দূরে রাখাই এ চক্রের মূল লক্ষ্য। ইতোমধ্যে এক বিশেষ সহকারী ও এক প্রভাবশালী সচিবের ষড়যন্ত্রের শিকার হয়েছেন একাধিক ডিআইজি পদমর্যাদার কয়েকজন কর্মকর্তা।

গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের সাবেক পুলিশ কমিশনার ড. মো. নাজমুল করিম খান সাময়িক বরখাস্ত হয়েছেন। এর আগে গত মার্চে কোনো সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ছাড়াই ময়মনসিংহ রেঞ্জের ডিআইজি ড. আশরাফুর রহমানকে পুলিশ সদর দপ্তরে বদলি করা হয়। এছাড়াও ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ডিআইজি) ফারুক আহমেদকে র‍্যাবের অতিরিক্ত মহাপরিচালক পদে বদলি করা হয়েছে। এই কর্মকর্তারা আওয়ামী লীগের আমলে পদোন্নতি বঞ্চিত ছিলেন এবং তাদের পরিবারও বিভিন্ন হুমকি ও নির্যাতনের শিকার হয়েছেন।

পুলিশের শীর্ষ পর্যায়ের একাধিক কর্মকর্তা জানান, ড. নাজমুল করিম খান বাংলাদেশ পুলিশ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশন (বিপিএসএ) সভাপতি হলেও তিনি পদোন্নতি পাননি। তার ব্যাচের কর্মকর্তারা অতিরিক্ত আইজিপি হলেও তিনি এসপি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। পরে তাকে অবসরে পাঠানো হয়। একটি পত্রিকার রিপোর্টের ভিত্তিতে তদন্ত ছাড়াই প্রত্যাহার ও বরখাস্ত করা পেশাদার বাহিনীর জন্য অপমানজনক। এতে পুলিশের চেইন অব কমান্ড দুর্বল হবে এবং ফ্যাসিস্ট মনোভাবাপন্ন কর্মকর্তারা সুযোগ নেবে, যা জাতীয় নির্বাচনে প্রভাব ফেলবে।

সূত্র মতে, ১৫তম বিসিএসের ডিআইজি ড. আশরাফুর রহমান ২০২৪ সালের ৫ সেপ্টেম্বর ময়মনসিংহ রেঞ্জে যোগদান করেন। ভেঙে পড়া পুলিশের মনোবল পুনর্গঠনে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। “ডেভিল হান্ট” অভিযানে তিনি ৮০০-এর বেশি আওয়ামী ফ্যাসিস্টকে গ্রেপ্তার করে ময়মনসিংহ আলোচনায় আসেন। ডিআইজি ফারুক আহমেদ ছাত্র- জনতার গণআন্দোলনের পর আওয়ামী সরকারের পতনের পর পুলিশ বাহিনী পুনর্গঠনে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন। পরবর্তীতে গভীর ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে তাকে র‍্যাবে বদলি করা হয়েছে। এছাড়াও আওয়ামী লীগের সরকারের সময় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন মোহাম্মদ আবদুল মাবুদ। ১৮ বছর পদবঞ্চনার শিকার হওয়া মাবুদকে পরে ডিআইজি পদোন্নতি দিয়ে অবশেষে হাইওয়ে পুলিশে বদলি করা হয়।

একইভাবে, কেএমপির যুগ্ম পুলিশ কমিশনার ডিআইজি আবু রায়হান মোহাম্মদ সালেহকে সারদা রাজশাহীতে, ডিএমপির যুগ্ম পুলিশ কমিশনার ডিআইজি মোহাম্মদ উসমান গনিকে টুরিস্ট পুলিশে এবং এসবি’র এডিশনাল ডিআইজি এ.কে.এম মোশাররফ হোসেন মিয়াজীকে এসবিতে পদায়ন করা হয়। তারা সকলেই দীর্ঘ সময় পদবঞ্চনার মুখোমুখি ছিলেন। তবে বর্তমানে শৃঙ্খলা রক্ষায় তাদের গুরুত্বপূর্ণ পদে পদায়ন করা হয়নি। একাধিক অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তার মতে, দক্ষ ও মেধাবী ডিআইজি পদমর্যাদার কর্মকর্তাদের গুরুত্বপূর্ণ পদে পদায়ন/বদলি না করায় আইনশৃঙ্খলা দুর্বল হয়ে পড়েছে। পরিস্থিতি অবিলম্বে সংশোধনের প্রয়োজন রয়েছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

বিস্তারিত...
Link Copied!