• রবিবার, ১৫ মার্চ ২০২৬, ০৩:০৯ অপরাহ্ন
শিরোনাম:
আত্মীয়স্বজন না থাকলে অর্থ-স্বর্ণালংকার থানায় রেখে যেতে বলল ডিএমপি ঢাকা প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন: ঋণের প্রলোভনে ৬ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ, সুষ্ঠু তদন্তের দাবি কৃষক কার্ড বিতরণ কর্মসূচির উদ্বোধন ১৪ এপ্রিল প্রতিরোধী ক্ষেপণাস্ত্র ফুরিয়ে আসছে ইসরায়েলের কেরানীগঞ্জে নিষিদ্ধ পলিথিন সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্য, অনুসন্ধানী সংবাদে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে অভিযোগ রাজধানীতে ঢাকাস্থ সৈয়দ মহল্লা সমিতির ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় দিনের অধিবেশন শুরু প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশে দেশ হবে এবার রোগমুক্ত! আমান উল্লাহ আমান সোনারং–টঙ্গীবাড়ী ইউনিয়ন পরিষদের উদ্যোগে মশক নিধন ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান ইমাম ও মুয়াজ্জিনদের সম্মানি প্রদান কার্যক্রম উদ্বোধন প্রধানমন্ত্রীর

বরিশাল গণপূর্তে বিল লুটের মহাযজ্ঞ: অবৈধ সম্পদ ঢাকতে গিয়ে স্ত্রীকেও রাজি করাতে পারেননি রুপক

সংবাদদাতা / ৬৩ পাঠক ভিউ
আপডেট সময় : শুক্রবার, ৯ জানুয়ারী, ২০২৬

বিশেষ  প্রতিনিধি : অবৈধ সম্পদ আড়াল করতে নিজের স্ত্রীকেও অস্বীকার করার অভিযোগ ওঠার পর বরিশাল গণপূর্ত বিভাগ জেলা অফিসে ভয়াবহ দুর্নীতির একটি সংঘবদ্ধ নেটওয়ার্কের চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে আজকালের কণ্ঠের অনুসন্ধানে। নির্বাহী প্রকৌশলী, হিসাব রক্ষক, ক্যাশিয়ার ও হিসাব সহকারীর সমন্বয়ে গড়ে ওঠা এই চক্র দীর্ঘদিন ধরে ঠিকাদারদের বিল আটকে রেখে কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ করছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

অনুসন্ধানে জানা যায়, কাজ সম্পন্ন করলেও সরকারি বাবুদের নির্ধারিত “কমিশন” না দিলে ঠিকাদাররা তাদের প্রাপ্য বিল পান না। আবার কাউকে রাজনৈতিক ট্যাগ দিয়ে “স্বৈরাচারের দোসর” আখ্যা দিয়ে বিল আত্মসাৎ করা হচ্ছে। বরিশাল গণপূর্ত বিভাগ ইতোমধ্যেই অনিয়ম ও দুর্নীতির এক আতঙ্কের নাম হয়ে উঠেছে। এই ধারাবাহিক দুর্নীতির অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের আজ দ্বিতীয় পর্ব প্রকাশিত হলো।
কাজ শেষ, টাকা উধাও।মেসার্স গাজী বিল্ডার্সের প্রোপাইটর মো. আল মামুন অভিযোগ করেন, ২০২৪–২০২৫ অর্থবছরে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের উন্নয়নমূলক সংস্কার কাজ সম্পূর্ণ করেও তিনি এক টাকাও পাননি। ইজিপি টেন্ডার আইডি নম্বর ১১১৪৩৫১-এর বিপরীতে প্রায় ৯ লাখ ৪৯ হাজার ৭৯১ টাকার কাজ যথাসময়ে ও সন্তোষজনকভাবে শেষ হলেও সেই টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে।

বাধ্য হয়ে তিনি নির্বাহী প্রকৌশলী মো. ফয়সাল আলম, হিসাব রক্ষক মো. আলমগীর হোসেন, ক্যাশিয়ার মো. মঞ্জুর কাদির এবং হিসাব সহকারী আবুল হাসান রুপকের বিরুদ্ধে লিগ্যাল নোটিশ পাঠান রুপকই ‘মাস্টারমাইন্ড নোটিশ ও ঠিকাদারদের বক্তব্যে উঠে আসে, এই পুরো প্রক্রিয়ার মূল নিয়ন্ত্রক হিসেবে কাজ করছেন হিসাব সহকারী আবুল হাসান রুপক।অভিযোগ রয়েছে, রুপকের ভাই বরিশাল বিএনপির সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকায় সেই রাজনৈতিক পরিচয়কে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে অফিসে ভয়ভীতি ও প্রভাব বিস্তার করা হচ্ছে।

একাধিক সূত্র জানায়, বিল ছাড়ের ক্ষেত্রে রুপকের ‘সবুজ সংকেত’ ছাড়া কোনো ফাইল নড়ে না। কমিশন না দিলে ফাইল আটকে রাখা হয় মাসের পর মাস।নির্বাহী প্রকৌশলীর ছত্রচ্ছায়া অনুসন্ধানে আরও উঠে আসে, নির্বাহী প্রকৌশলী মো. ফয়সাল আলম রুপকের ওপর ভর করেই পুরো অফিসে একচেটিয়া আধিপত্য বিস্তার করেছেন। অভিযোগ রয়েছে, তিনি স্বৈরাচার সরকারের প্রভাবশালী মহলের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট থাকায় নিজেকে অপ্রতিরোধ্য মনে করেন এবং অধস্তন কর্মকর্তাদের দিয়ে এই অনিয়ম পরিচালনা করছেন।

অর্থবছরের অজুহাত আইনের ফাঁক না প্রতারণা? ১১ নভেম্বর দেওয়া লিগ্যাল নোটিশের জবাবে ১৮ নভেম্বর গণপূর্ত বিভাগ দাবি করে, ঠিকাদারের বিল ৩০ জুন ২০২৫ তারিখে প্রস্তুত হলেও শেবাচিম হাসপাতাল পরিচালকের প্রত্যয়নপত্র জমা পড়ে ২ সেপ্টেম্বর ২০২৫ তারিখে। ফলে ভিন্ন অর্থবছরে পড়ায় বিল পরিশোধ সম্ভব হয়নি।কিন্তু একাধিক ঠিকাদার ও প্রশাসনিক সূত্র বলছে, এটি একটি সাজানো অজুহাত। কারণ, এক অর্থবছরের বরাদ্দ অন্য অর্থবছরে স্থানান্তরের কোনো বিধান নেই। সদর দপ্তরের অনুমোদন ছাড়া এমন কাজ সম্পূর্ণ বেআইনি। অথচ এই অর্থবছরের ফাঁদ” ব্যবহার করেই নিয়মিত বিল আত্মসাৎ করা হচ্ছে বলে অভিযোগ।

ঠিকাদারের অভিযোগ মেসার্স গাজী বিল্ডার্সের প্রোপাইটর মো. আল মামুন বলেন, “আমি নির্ধারিত সময়েই কাজ শেষ করেছি। হিসাব সহকারী রুপক ও নির্বাহী প্রকৌশলী ফয়সাল আলম পরিকল্পিতভাবে আমার টাকা আত্মসাৎ করার চেষ্টা করছেন। এটা শুধু আমার না অনেক ঠিকাদারের একই অবস্থা। আমি এর দৃষ্টান্তমূলক বিচার চাই। কর্মকর্তার অস্বীকারএ বিষয়ে নির্বাহী প্রকৌশলী মো. ফয়সাল আলমের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি সব অভিযোগ অস্বীকার করেন


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

বিস্তারিত...
Link Copied!