• শনিবার, ১৩ ডিসেম্বর ২০২৫, ০১:৫২ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম:
ঢাকা-০৭ আসনের এমপি প্রার্থী মীর নেওয়াজ আলী সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎ বিডিসি ক্রাইম বার্তা পরিবার ঢাকা-০৭ আসনের জনপ্রিয় নেতার উত্থান: রাজনীতির মাঠে মীর নেওয়াজ আলী নেওয়াজের বিচক্ষণ নেতৃত্ব এক নজরে মুন্সিগঞ্জ: ইতিহাস, সীমানা ও দর্শনীয় স্থান ভাঙ্গুড়ায় মোটরসাইকেলের ধাক্কায় শিশুর মৃত্যু জামালপুরে খায়রুল ইসলামের ওপর পরিকল্পিত হামলা ও লুটপাট ভাঙ্গুড়ায় সাংবাদিকদের কাছে ক্ষমা চাইলেন নাজিম উদদীন ক্লিনিক মালিক পক্ষ বেদনাশ্রু নিয়ে কোন ভুক্তভোগী থানায় এলে, আনন্দাশ্রু নিয়ে থানা থেকে ফিরে যাবে ওসি টঙ্গীবাড়ীতে পুলিশের বিশেষ অভিযান শুরু ৪০ ফুট মাটি খুঁড়েও উদ্ধার হয়নি শিশু সাজিদ সিরাজদিখানে দুই সিএ–এর বিরুদ্ধে নানা অনিয়মের অভিযোগ

ভুরুঙ্গামারীতে শ্রমিক অধিকার পরিষদের নেতা কুদ্দুস আলীর চাঁদাবাজিতে অতিষ্ঠ সাধারণ মানুষ

আতিকুল কবির, (কুড়িগ্রাম): / ৭৭ পাঠক ভিউ
আপডেট সময় : সোমবার, ২৪ নভেম্বর, ২০২৫

আতিকুল কবির, (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি: বাংলাদেশ শ্রমিক অধিকার পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির অর্থ সম্পাদক মোহাম্মদ কুদ্দুস আলীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভয়ভীতি ও প্রভাব খাটানোর একের পর এক গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। বিশেষ করে কুড়িগ্রামের ভুরুঙ্গামারী এলাকায় গাড়ি চালক, পরিবহন শ্রমিক ও স্থানীয় জনগণ তাঁর কর্মকাণ্ডে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে বলে অভিযোগ করেছেন।

থানা কেন্দ্রিক চাঁদাবাজির অভিযোগ:

স্থানীয় সূত্র জানায়, প্রতিদিন সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত ভুরুঙ্গামারী থানায় অবস্থান করেন কুদ্দুস। থানার প্রভাব ও কর্মকর্তাদের নাম ব্যবহার করে সাধারণ মানুষকে ডেকে আনা, মামলা-হামলার ভয় দেখিয়ে টাকা আদায়—এসব অভিযোগ দীর্ঘদিনের।

স্থানীয়রা বলেন,

“ভয়ভীতি দেখিয়ে লাখ লাখ টাকা আদায় করাই কুদ্দুসের নিত্যদিনের কাজ।”রাজনৈতিক নেতাদের ক্ষোভ: ভুরুঙ্গামারী থানা বিএনপির কয়েকজন নেতা জানান, কুদ্দুস আলী সাধারণ মানুষের ওপর অকারণে অত্যাচার করছেন। তাঁরা বলেন,“কুদ্দুসের অত্যাচারে এলাকাবাসী অতিষ্ঠ। তাঁর বিরুদ্ধে দলের প্রধান বরাবর দু’টি অভিযোগ দাখিল করা হয়েছে। তাঁকে দ্রুত অপসারণের দাবি করছি।”

গাড়িচালক–শ্রমিকদের অভিযোগ:

উপজেলার বিভিন্ন রুটে চলাচলকারী ড্রাইভারদের অভিযোগ—রাস্তার নির্দিষ্ট পয়েন্টে গাড়ি থামিয়ে প্রতিদিনই কুদ্দুস বা তাঁর সহযোগীরা টাকা দাবি করেন। একজন ড্রাইভার নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন,“প্রতিদিন নতুন অজুহাত—কখনো পথচারী সহায়তা, কখনো সংগঠনের টাকা, কখনো নিরাপত্তা ফি। টাকা না দিলে গাড়ি আটকে রাখা বা অপমান করা হয়।”

একজন পরিবহন শ্রমিক নেতা জানান,

“রাজনৈতিক পরিচয়কে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে কুদ্দুস বহুদিন ধরে চাঁদাবাজি করছে। কেউ প্রতিবাদ করলে পরে থানায় নিয়ে হয়রানি করা হয়।”ক্ষতিগ্রস্তদের সরাসরি অভিযোগ ইসলামপুরের ইকবাল:“পুলিশ আসছে বলে ভয় দেখিয়ে আমার কাছ থেকে ৩০ হাজার টাকা নিয়েছে।”

নুরজাহান বেগম (ভুরুঙ্গামারী পৌরসভা):

“আমার মেয়ের একটি বিষয়ে থানায় সালিশ হয়। ওসি স্যারের নামে ১৫ হাজার টাকা নেয় কুদ্দুস।”আখতারুল (চর ইসলামপুর): “থানার ভয় দেখিয়ে আড়াই লাখ টাকা নিয়েছে। টাকা ফেরত চাইলে উল্টো ভয় দেখায়। ”অটো চালক ইব্রাহিম: “প্রতিদিন ৫০ টাকা করে চাঁদা নেয়। না দিলে গাড়ি থানায় রেখে দেয়।”কুদ্দুস আলীর বক্তব্য অভিযোগের বিষয়ে জানতে ফোন করা হলে কুদ্দুস আলী বলেন,“উপজেলার সাধারণ মানুষ বিপদে পড়লে আমার কাছে আসে। আমি ওসি সাহেবের মাধ্যমে তাদের সেবা দিই। থানায় বসে সাধারণ মানুষকে সহায়তা করাই আমার কাজ।”

এলাকাবাসী বলছেন,

“রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে চাঁদাবাজির এই কার্যক্রম বন্ধ না হলে আইনশৃঙ্খলা আরও অবনতি হবে।”তাঁরা দ্রুত তদন্ত ও প্রশাসনের কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান। ভুরুঙ্গামারী থানার ওসি আল হেলাল মাহমুদ জানিয়েছেন তিনি শ্রমিক অধিকার পরিষদের নেতা। এই হিসাবে আমার থানায় আসা-যাওয়া করি। তবে তিনি মানবিক মানুষ। থানায় কোন ঘটনা ঘটলে সালিশের মাধ্যমে মীমাংসা করে দেয়। এতে সকলেই খুশি।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

বিস্তারিত...
Link Copied!