খুলনায় আলোচিত অপরাধী হিসেবে পরিচিত রণি চৌধুরী ওরফে ‘গ্রেনেড বাবু’ এবং তার বড় ভাই মাহমুদুন চৌধুরী জনিকে ঘিরে নতুন করে আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় সূত্র ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তাদের বরাতে জানা যায়, খুলনা ও আশপাশের এলাকায় তারা দীর্ঘদিন ধরে অবৈধ কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত বলে অভিযোগ রয়েছে।
আদালত সূত্রে জানা যায়, ২০১০ সালের ১০ জুন মাদক ব্যবসা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে মাদক ব্যবসায়ী জাহাঙ্গীর হোসেন কচি হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় গ্রেনেড বাবুর নাম আসে। মামলায় গ্রেফতারের পর তিনি আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। ২০২৩ সালের ২৮ মার্চ খুলনার একটি আদালত তাকে ওই মামলায় যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে দণ্ডিত করেন। তবে রায় ঘোষণার আগেই তিনি আত্মগোপনে চলে যান বলে পুলিশ জানায়। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা জানান, গ্রেনেড বাবু বর্তমানে দেশের বাইরে অবস্থান করছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে স্থানীয়দের দাবি, তিনি মাঝে মাঝে গোপনে খুলনায় আসেন এবং তার অনুসারীরা এখনো সক্রিয়। এদিকে, বাবুর বড় ভাই মাহমুদুন চৌধুরী জনি সম্পর্কে অভিযোগ রয়েছে যে তিনি স্থানীয় ব্যবসার আড়ালে অবৈধ অর্থ লেনদেন ও মাদক ব্যবসায় জড়িত থাকতে পারেন।
স্থানীয়রা দাবি করেছেন, জনির খুলনায় একাধিক বাড়ি ও একটি ফ্যাক্টরি রয়েছে। তিনি মালয়েশিয়ার নাগরিকত্বও পেয়েছেন বলে জানা গেছে। তার নামে থাকা সম্পদ ও ব্যবসার বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তদন্ত করছে কিনা—এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
মাহমুদুন চৌধুরী জনি ২০২৪ সালের ৫ই আগষ্ট পরবর্তীকালে বিপুল অর্থের বিনিময়ে নব্য বিএনপি হয়ে মোংলা সিএন্ডএফ এ্যাসোসিয়েশন জোর পূর্বক পেশীশক্তি ও রাজনৈতিক শক্তি খাটিয়ে দখল করে। তার পুরো পরিবার আওয়ামী লীগে সক্রিয় অনুসারী ছিলো।
মোংলা সিএন্ডএফ এ্যাসোসিয়েশন জোর পূর্বক দখল করে বিপুল অর্থ লুটপাট ও সাধারণ সিএন্ডএফ ব্যবসায়ীদের থেকে জোর করে চাঁদা তুলছে বিভিন্ন ভয়-ভীতি প্রদর্শন করে। এক্ষেত্রে তাকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করছে শহীদুল ইসলাম শহীদ, ফরিদ ও মাসুদ নামক কতিপয় সিএন্ডএফ নামধারী সন্ত্রাসী।
উল্লেখ্য যে শহীদ, ফরিদ ও মাসুদ এরা বিপুল অর্থের বিনিময়ে ও পেশিশক্তির দ্বারা আওয়ামী আমলে জাল ও ভুয়া সার্টিফিকেটের মাধ্যমে সিএন্ডএফ লাইসেন্স পেয়েছে। এ বিষয়ে আমরা এনবিআর চেয়ারম্যানের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য।