প্রতিবাদ লিপি
আমরা মধ্যপাড়া এলাকাবাসীর একাংশ সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ও জনসমক্ষে প্রকাশিত একটি লেখার তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছি, যেখানে আমাদের এলাকার পরিচিত ব্যক্তি মনির খানকে উদ্দেশ্য করে একতরফা, কুরুচিপূর্ণ ও প্রমাণহীন অভিযোগ উত্থাপন করা হয়েছে।
প্রথমেই স্পষ্টভাবে বলতে চাই—রাজনৈতিক সভা করা যেমন প্রত্যেক দলের অধিকার, তেমনি সভায় বক্তব্য দেওয়া একজন বক্তার সাংবিধানিক ও গণতান্ত্রিক অধিকার। ভিন্নমত থাকবে, সমালোচনাও থাকবে; কিন্তু সেই সমালোচনার জবাবে ব্যক্তিগত চরিত্র হনন, বিদ্রূপ ও রুচিহীন উপমা ব্যবহার কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
মনির খান তার বক্তব্যে রাজনৈতিক দল ও নেতৃত্বের সমালোচনা করেছেন—এটি রাজনীতির স্বাভাবিক অনুষঙ্গ। রাজনীতিতে কাউকে প্রশ্ন করা বা সমালোচনা করা মানেই তার চরিত্র নিয়ে কটাক্ষ করা যায়—এমন ধারণা গণতন্ত্রবিরোধী। অথচ উক্ত লেখায় তার বক্তব্যের জবাব না দিয়ে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তার ব্যক্তিগত জীবন, ব্যবসা, পোশাক-পরিচ্ছদ এমনকি ধর্মীয় অনুশীলন পর্যন্ত টেনে আনা হয়েছে, যা নিতান্তই অনভিপ্রেত।
আরও দুঃখজনক বিষয় হলো—কোনো প্রকার তথ্যপ্রমাণ ছাড়াই তাকে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সুবিধাভোগী সম্পর্কের অভিযোগে অভিযুক্ত করা হয়েছে। রাজনীতির মাঠে সক্রিয় থাকা বা বিভিন্ন সময় ভিন্ন মতের সঙ্গে সংযোগ থাকা অপরাধ নয়। দেশের রাজনৈতিক বাস্তবতায় বহু মানুষই সময় ও পরিস্থিতির আলোকে মত প্রকাশ করেন—এটিকে ভণ্ডামি বলে দাগিয়ে দেওয়া অযৌক্তিক।
আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, মতের বিরুদ্ধে মত আসবে—কিন্তু তা হতে হবে বক্তব্যের মাধ্যমে, যুক্তির মাধ্যমে; ব্যক্তিগত আক্রমণ ও ব্যঙ্গ-বিদ্রূপের মাধ্যমে নয়। এ ধরনের লেখালেখি সমাজে বিভক্তি সৃষ্টি করে এবং সুস্থ রাজনৈতিক সংস্কৃতিকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। আমরা সংশ্লিষ্ট লেখকের কাছে আহ্বান জানাচ্ছি—ব্যক্তিগত আক্রমণের পথ পরিহার করে রাজনৈতিক ভিন্নমতকে রাজনৈতিক ভাষায় মোকাবিলা করুন। যদি মনির খানের বক্তব্যের সঙ্গে দ্বিমত থাকে, তবে তা যুক্তি ও তথ্য দিয়ে তুলে ধরুন।
গঠনমূলক সমালোচনাই গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করে, আর কুরুচিপূর্ণ আক্রমণ গণতন্ত্রকে দুর্বল করে।
—প্রতিবাদকারী
মধ্যপাড়ার সচেতন নাগরিকবৃন্দ