সজিব হাওলাদার (মুন্সিগঞ্জ) থেকেঃ মুন্সিগঞ্জের লৌহজং উপজেলায় এক তরুণ গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যু ঘিরে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। নিহত গৃহবধূ জান্নাত আক্তার (২০)-এর পরিবারের দাবি, এটি আত্মহত্যা নয়—পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। ঘটনার পর থেকেই শ্বশুরবাড়ির লোকজন পলাতক রয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে লৌহজং উপজেলার খিদিরপাড়া ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ডে। নিহত জান্নাত ওই এলাকার ধাইড়পাড়া গ্রামের মোহাম্মদ শেখের পুত্র আয়নাল শেখের স্ত্রী। তাদের সংসারে রয়েছে মাত্র ১১ মাস বয়সী এক সন্তান।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, গত ২৩ ডিসেম্বর ২০২৫, দুপুর আনুমানিক ২টার দিকে জান্নাত তার স্বামীর বাড়ির নিজ ঘরে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছে—এমন দাবি করে শ্বশুরবাড়ির লোকজন। পরে তাকে দ্রুত সিরাজদিখান উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
নিহতের বাবা আনোয়ার হোসেন অভিযোগ করে বলেন, বিয়ের পর থেকেই আমার মেয়েকে তার শ্বশুর-শাশুড়ি ও ননদ নির্যাতন করতো।। মাত্র ১৫ দিন আগে স্থানীয় এক ব্যাক্তি ও মেয়ের শ্বশুর বারবার অনুরোধ করে আমার মেয়েকে আবার শ্বশুরবাড়িতে নিয়ে যান।” তিনি আরও দাবি করেন, আমার মেয়ে আমাকে জানিয়েছিল, তার স্বামী সঙ্গে তার ভাবির অবৈধ সম্পর্ক রয়েছে। এসব বিষয় নিয়ে প্রায়ই তাকে মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন করা হতো। আমার দৃঢ় বিশ্বাস, আমার মেয়েকে হত্যা করা হয়েছে।”
মেয়ের মৃত্যুর খবর পেয়ে তিনি দ্রুত হাসপাতালে গিয়ে লাশ শনাক্ত করেন এবং পরবর্তীতে লৌহজং থানায় একটি লিখিত এজাহার দায়ের করেন। তিনি এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
মৃত জান্নাত এর চাচী জানান ২টার দিকে আমার মোবাইলে জান্নাত এর ননাস আমাকে কল দিয়ে বলে জান্নাত গলায় ফাঁস দিছে। পরবর্তী তে তার স্বামী আমাকে কল দিয়ে একই বিষয় বলে। তার শশুর বাড়ির লোকজন তার মোবাইল ও বাচ্চা টাও দেয়নি।
এ বিষয়ে লৌহজং থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মনিরুল ইসলাম বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল ও হাসপাতাল পরিদর্শন করেছে। নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ গ্রহণ করা হয়েছে। লাশ ময়নাতদন্তের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”