নিজস্ব প্রতিবেদক: নিজের ছেলে, শাশুড়ি ও শ্যালিকাদের নিয়ে মাদকের বিশাল নেটওয়ার্ক গড়ে তুলেছেন রাজধানীর শ্যামপুর থানাধীন গেণ্ডারিয়ার ফরিদাবাদের ঢালকানগর লেনের বাসিন্দা হাসান আলী লোকমান। ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে বাঘাবাড়ি ৭০ নং ঢালকানগরের এ বাড়িটিকে ঘিরে মাদকস্পট চালু হলেও ৫ আগস্টের পর প্রকাশ্যে মাদক বিক্রি হচ্ছে। যার নামে মাদক স্পটটি চলে সেই লোকমান ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে মাঝে মধ্যে পালিয়ে থাকতেন। এখন একেবারে প্রকাশ্যে থেকে হাক-ডাক দিয়ে চলছে মাদক কেনা বেচা।
এই স্পটের মূল আকর্ষ ইয়াবা ট্যাবলেট। তবে গাঁজাও বিক্রি হচ্ছে দেদারসে। সকাল হতে না হতেই শুরু হওয়া মাদকের বাণিজ্য চলে গভীর রাত পর্যন্ত। এখানে প্রকাশ্যে মাদক বিক্রির একাধিক ভিডিও রয়েছে এসেছে এ প্রতিবেদকের হাতে। স্থানীয়রা জানান, লোকমানের বাসার অনতিদূরেই ৭০ নম্বর বাড়ি। যার মালিক লোকমানের শ্বশুরকুলের লোকজন। এ বাড়ির সামনেই বিক্রি হচ্ছে সব মাদক। কখনো অভিযান হলে বিক্রেতারা পাশের নির্মাণাধীন বাড়িতে ঢুকে গলি দিয়ে পালিয়ে যায়। তবে শ্যামপুর থানার একজন এসআই অভিযানের খবর আগেই ফাঁস করে দেন বলে অভিযোগ রয়েছে। বিনিময়ে তিনি নিয়মিত মাসোহারা নিয়ে থাকেন। যদিও শ্যামপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ( ওসি) শফিকুল ইসলাম দাবি করেছেন, সেখানে নিয়মিত অভিযান চলে। ইতিমধ্যে কয়েকজন গ্রেফতার হয়েছেন। তার থানার কোন কর্মকর্তা জড়িত রয়েছে কিনা সে বিষয়ে সাংবাদিকদের তদন্ত করে দেখার অনুরোধ করে ওসি বলেন, পুলিশের কোনো সদস্য জড়িত থাকার প্রমান পেলে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

স্থানীয়রা জানান, লোকমান গ্রেফতার হবার পরে তার ছেলে মুন্না স্পটের দায়িত্ব দেন। মুন্নার বর্তমান সহযোগী- মাশা কালু ও মমিণ। এদের পেশা রিকশাচালক কিন্তু আসল কাজ মাদক ডেলিভারী করানো। মুন্নার বড় বড় পার্টি ডিলার-জুম্মন। বাঘাবাড়ীর দিক গুলা দেখে- দুলাল মিয়ার ছোট ছেলে, টুন্ডা জিয়ার ছোট ভাই, সিফাত স্বপন, রিপণ, বাপ্পি ব্যাবসার টাকা উঠায়। এছাড়া মুন্নার মা হাসু বেগম মাল রাখে মরহুম কেতু মিয়াদের নির্মানাধীন এপার্টমেন্ট এর পাশের টিনশেড বাড়িতে। এছাড়াও তাদের পাশের বাসা টুটুল ও ঢালকানগরের মুকুল মিয়াদের বাসার পাশে, নির্মানাধীন এপার্টমেন্ট এবং লেংড়া বাবুদের ছাদে। ওই স্পটটি সচরাচর এড়িয়ে চলার চেষ্টা করেন সচেতন নাগরিক সমাজ। শিশু সন্তান সঙ্গে থাকলে এখানের নিদ্দিষ্ট একটি বাড়ির সামনে দিয়ে চলাফেরা করেন না। বাড়িটির সামনে দু’একজন ব্যক্তিকে ঘিরে সব সময় লেগে থাকে দীর্ঘ লাইন। ঘিরে রাখা ব্যক্তিটির হাতে থাকে মাদকের পোটলা আর আর লাইনে থাকা মানুষগুলো ওই সব মাদকের ক্রেতা।
লোকমানের শাশুড়ি হাসু বেগমও যেমন মাদক মামলায় জড়িত। তেমনি তার নামেও রয়েছে মামলা।
মাদক মামলায় জড়িত।
এভাবেই দিন-রাত চলছে মাদক ব্যবসা। স্থানীয়দের অভিযোগ, মাদক স্পটটির মালিক লোকমান হলে তাকে সেল্টার দিচ্ছে গেণ্ডারিয়া-শ্যামপুর ও ডিআইটি প্লট এলাকার ত্রাস শহীদ কমিশনারের অন্যতম সহযোগী এবং বর্তমানে একটি রাজনৈতিক দলের ৪৭ নং ওয়ার্ডের সভাপতি নূর ইসলাম। নূর ইসলাম শুধু শহীদের সহযোগীই ছিলেন না, হাজী সেলিমের হয়ে তিনি এলাকায় প্রভাব বিস্তার করেছিলেন। তার বিরুদ্ধে বিএনপির এক সমর্থক দলটির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অভিযোগ করেছেন। মাদকটির এক সময়ের একজন বিক্রেতা নিজের নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, এক সময় মাদক আনা নেয়ার জন্য পুরুষ নিয়োজিত থাকলেও এখন ফুলি নামে এক সুন্দরী তরুণি মাদক আনা নেয়ার কাজ করেন। পুরুষ মানুষ অনেক সময় আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারি বাহিনীর চেকপোষ্টে তল্লাশীর শিকার হন। কিন্তু এ ক্ষেত্রে নারীরা অনেক নিরাপদ। তাই এ স্পটে সুন্দরি ফুলিসহ কয়েকজন নারীকে ব্যবহার করা হচ্ছে। এছাড়া আশপাশে থেকে স্পটটি চালাতে সহযোগিতা করেন, জুম্মন, জামান ও ফরমা বাবু। এছাড়াও রয়েছেন হৃদয় প্রধান। প্রশাসনিকভাবে হাইপ্রোফাইল সহযোগিতার তালিকায় রয়েছেন একটি রাজনৈতিক দলের অঙ্গ সংগঠনের শাহআলম ও লম্বু রনি।
স্থানীয়রা জানিয়েছেন, এ মাদক স্পটটি এখন তাদের তাদের গলার কাটা। স্থানীয় কিশোর-যুবকরা এগুলো দেখতে দেখতে অনেকেই আসক্ত হয়ে পড়েছে। যা রীতিমতো তাদের ভাবিয়ে তুলেছে। এছাড়া এলাকাটি মাদক এলাকা হিসেবে পরিচিত পাওয়ায় তাদের লজ্জা পেতে হচ্ছে। তারা একাধিকবার বিষয়টি পুলিশকে জানালেও কোন ধরনের প্রতিকার পাচ্ছেন না। তবে মাদক স্পটের অভিযুক্ত সেল্টারদাতার অভিযুক্ত নূর ইসলাম বলেন, মাদক স্পটটি চালায় মূলত লোকমানের শ্যালক মুন্না তার লোকমানের শাশুড়ি। আওয়ামীলীগ সরকারের সময় থেকেই এ স্পট চালু। আমি স্পট থেকে কোন সুবিধা নেই না। ব্যবসা করে খাই। হাজী সেলিমের সাথে আপনার অন্তরক্ত ছবি ও সম্পৃক্তাতার কথা জানতে চাইলে তিনি বলেন, জমি সংক্রান্ত শালিস বৈঠকে হাজী সেলিমের সাথে তার অফিসে আমার ছবি রয়েছে। জানতে চাইলে শ্যমপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিকুল ইসলাম বলেন, স্পটটিতে নিয়মিত অভিযান হয় বলেইতো আসামিরা গ্রেফতার হয়। এরপরও লুকিয়ে লুকিয়ে মাদক বিক্রি হচ্ছে।
আসন্ন জাতীয় সংসদে বিএনপি থেকে ঢাকা- ৪ আসনে নমিনেশন পাওয়া তানভীর আহমেদ রবিন বলেন,ওই স্পটির কারনে এলাকার বদনাম হচ্ছে। আইনগতভাবে উচ্ছেদ এবং চিহিৃতদের গ্রেফতার করতে অতি সম্প্রতি তিনি বিভাগীয় এবং থানা পর্যায়ের পুলিশ প্রধানদের সাথে বৈঠক করেছেন। তিনি আরো বলেন, সন্ত্রাসীদের পক্ষের কেউ কেউ এখানে জড়িত থাকতে পারেন। এর পেছনে দলের কেউ জড়িত থাকলেও তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। তিনি স্থানীয় জনপ্রনিধি হিসেবে নির্বাচিত হলে তার প্রথম কাজ হবে এলাকা মাদকমুক্ত করে যুব সমাজকে রক্ষা করা।