সর্বক্ষেত্রে সফল জীবনে আর কিছু চাই না, সুরুয্যামান - বিডিসি ক্রাইম বার্তা
ArabicBengaliEnglishHindi

BD IT HOST

সর্বক্ষেত্রে সফল জীবনে আর কিছু চাই না, সুরুয্যামান


bdccrimebarta প্রকাশের সময় : নভেম্বর ২৯, ২০২২, ৬:০৯ অপরাহ্ন / ৪৮
সর্বক্ষেত্রে সফল জীবনে আর কিছু চাই না, সুরুয্যামান

দীনেশ দেবনাথ মেঘনা (কুমিল্লা) থেকেঃ- কুমিল্লার কৃর্তি সন্তান বরিশাল জেলা স্কুলের সাবেক সহকারী শিক্ষক জনাব সুরুয্যামান সারা কুমিল্লা তথা বাংলাদেশের অহংকার। তিনি দীর্ঘ দিন বরিশাল জেলা স্কুলে সুনামের সহিত কর্মজীবন শেষ করে অবসরে গেছেন। কুমিল্লার মেঘনা উপজেলার ভাওরখোলা গ্রামের সন্তান তিনি। উনি এক পুণর্মিলনী অনুষ্ঠানে সবার উদ্দেশ্য মূল্যবান বক্তব্য দিয়ে সবার মাঝে সাড়া জাগানো ঝড় তুলেন। উনার বক্তব্য টি হুবহু তুলে ধরা হলো। আসসালামু আলাইকুম। আমার প্রিয় ১৯৭২ ব্যাচের ছাত্রবৃন্দ। অনেক আগেই নিমন্ত্রণ পেয়েছি বরিশাল জিলা স্কুলের ৭২ ব্যাচের ছাত্ররা তাদের ৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষ্যে বর্ণাঢ্য মহামিলন মেলার আয়োজনের প্রস্তুতি নিয়েছে। ৩৪ বছর ৬ মাস ১৩ দিন আমি বরিশাল জেলা স্কুলে শিক্ষকতা করেছি। জীবন সায়াহ্নে সন্তান তূল্য ছাত্রদের কাছ থেকে এসে এমন আহবান কি সাড়া না দিয়ে থাকা যায়? আমি শিক্ষকতা পেশাকে ভালোবেসেছিলাম পুরো সত্তা দিয়ে। কারণ, শিক্ষক মানে জীবন- জাগানিয়া। শিক্ষকের কাজ হচ্ছে জীবনের উম্মোচন, প্রস্ফুটন। মূলত মানুষের ভেতরে যে শক্তি, উদ্যম আর সুপ্ত প্রতিভার সম্ভাবনা আছে তাকে বিকশিত করা। আমি পুরো কর্ম জীবনে এ কাজটি যথা সাধ্য মনোযোগ দিয়ে করার চেষ্টা করেছি। তবে আমার ছাত্ররা জানে পাঠদানে আমার অনিঃ শেষ আন্তরিকতার কথা। যাঁদের নিমন্ত্রিত অতিথি হয়ে এসেছি তাঁরা কেউ বিচারপতি, কেউ সচিব, কেউ কেউ ইঞ্জিনিয়ার, ডাক্তার, বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক, কেউ কেউ সুপ্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী এবং বিদেশে উচ্চপর্যায়ে কর্মরত আছে। মোদ্দা কথা অধিকাংশরাই উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা হিসাবে সমাসীন ছিলেন এবং আছেন। সম্প্রতি অধিকাংশরাই অবসরে গেছেন। আজ ছাত্রদের জীবনের সমৃদ্ধি দেখে আমি গর্বিত। অনুষ্ঠানে ছাত্ররা পরস্পর আগের মতোই তুইতোকারি সম্বোধনে এক আনন্দঘন মুখোর কল্লোলে সৃষ্টি- সুখের উল্লাসে মেতে উঠেছিল। আর আমিও আমার বয়সের কথা ভুলে গেলাম। তারুণ্যেের উচ্ছ্বাসে বান ডেকেছিল যেন আমার প্রাণে। সর্বোচ্চ আনন্দ আর উদ্দীপনার তোড় ছিল বর্ষার বানের জলের মতো বেগবান। তাই তো আলোয়-আলোয় বিচ্ছুরিত দ্যুতির ছটায় অনুষ্ঠান ক্যাম্পাস আলোকিত মানুষের আলোর ঝলকে আলোক রাঙা আভায় ছিল সদা প্রাণবন্ত ও উচ্ছ্বাস মুখর। এটা এক অদ্ভুত ও বিস্ময়কর ছিল আমার কাছে। সুদীর্ঘ ৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষ্যে এতটা বিশাল আয়োজনের প্রস্তুতি দেখে আমি বিস্ময়ে আনন্দানুভূতিতে অভিভূত। মুগ্ধতায় মুগ্ধ। অনুষ্ঠানে ছাত্রদের তরতাজা, উদ্দামতা আর স্বতঃস্ফূর্ততা আমাদের কেও আবেগ বিহ্বল করে তুলেছিল। স্মৃতিরোমন্থনে আমরা ও হারিয়ে গিয়েছিলাম। এককথায় উদযাপন করেছি আমরা ও প্রাণ উজার করে। আমি মনে করি শিক্ষক হিসাবে আজ আমি সার্থক। সার্থকতা মানেই জীবনের সামগ্রিক পূর্ণতা। আমার জীবনে অপ্রাপ্তি নেই। কারণ, আমার চাহিদার তুলনায় তা কানায়- কানা পরিপূর্ণ। জীবনে আর কি চাই? আমার সন্তান তূল্য ছাত্ররা এতটা বছর পরও আমাকে ভুলে নি। অনুষ্ঠানে তাদের যোগ্যতার স্ফুরণে আমি আনন্দিত। তাদের অনেকেরই সাথে ফেসবুকে নিয়মিত যোগাযোগ আছে। শোকর আলহামদুলিল্লাহ। তবে ৭২ ব্যাচের ছাত্রদের ছাড়াও অন্যান্য ব্যাচের ছাত্ররা খন্ড খন্ড অনুষ্ঠানের আয়োজনে আমার মনটাকে তরতাজা রসে টইটম্বুর করে রেখেছিল। আনন্দ উপভোগ করছি সত্য তবে বিদায়টা ছিল বেদনা বিধুর। আর হয়ত জীবনে কারো সাথেই প্রত্যক্ষ ভাবে সাক্ষাৎ সম্ভাবনা নেই বললেই চলে। তবুও সাথে করে যা নিয়ে গেলাম তাই স্মৃতির জাবর কেটে বাকী জীবনটা কাটাব। ধন্যবাদ ও বিদায় অনুভূতিতে আপ্লুত হৃদয়ের অপার ভালোবাসা ও শ্রদ্ধা জানাচ্ছি আমার সাথে আরো তিনজন সহকর্মী কে। আর আমার প্রাণ প্রিয় ১৯৭২ ব্যাচের ছাত্রদের কে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানিয়ে আমার অগণন আশীর্বাদ ও শুভকামনা জানিয়ে শেষ করছি। আল্লাহ হাফেজ! শুভেচ্ছান্তে, মো: সূরুয্যামান স্যার। সাবেক সহকারী শিক্ষক, বরিশাল জিলা স্কুল। তিনি পৃথিবীতে চির অক্ষয় হয়ে থাকবেন বলে সাবেক শিক্ষার্থীদের অভিমত।#

bdccrimebarta