মোঃ মোস্তফা (সিরাজদিখান) প্রতিনিধিঃ মুন্সিগঞ্জের সিরাজদিখান উপজেলার বালুচর ইউনিয়নের ৪৬ নং কালিনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভবন নির্মাণ কাজ শুরু হয় ২০২০ সালে, কাজ শুরু করে ৪ বছর পার হয়েছে তার পরেও কাজ শেষ হয়নি। ফলে পুরাতন ভবনে চলছে শিক্ষার্থীদের শিক্ষাকার্যক্রম। পর্যাপ্ত কক্ষের অভাবে কোনরকম ভাবে পাঠদান করানো হচ্ছে শিক্ষার্থীদের।
এতে একদিকে শিক্ষার পরিবেশ ব্যাহত হচ্ছে, অন্যদিকে কমছে শিক্ষার্থীর সংখ্যা। নতুন ভবন নির্মাণ করে শ্রেণি কার্যক্রমও শিক্ষার পরিবেশ ফিরিয়ে আনার দাবি শিক্ষক- শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের। এদিকে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান দীর্ঘদিন যাবৎ আত্মগোপনে রয়েছেন। পরে সিরাজদিখান উপজেলা এলজিইডি”র সাবেক কর্মকর্তা খায়রুল বাসার নিজেই কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন বলে জানা গেছে।
সিরাজদিখান উপজেলা এলজিইডি তথ্য মতে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের নাম: মেসার্স আদিব ট্রেডার্স। চুক্তির পরিমাণ: ১,৪৪,৯২,৩০৪-১৫০ টাকা, চুক্তি স্বাক্ষরের তারিখ: ০২-ডিসেম্বর-২০২০ প্রকল্পের সমাপ্তির তারিখ: ৩১-ডিসেম্বর-২০২৫ প্রকল্পের নাম: এনবিআইডিজিপিএস।
স্থানীয়’রা বলছেন চুক্তির মেয়াদ অনেক আগেই শেষ হয়েছে কিন্তু সিরাজদিখান উপজেলা এলজিইডির কর্মকর্তারা সঠিক তথ্য দেন নাই, ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের কাজ তারা নিজেরাই করছেন, তাই তারা এবিষয়ে গোজামিল দিচ্ছেন। ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের মালিক আওয়ামী লীগ নেতা হওয়ার কারণে গত ৫ আগষ্ট আওয়ামী লীগ সরকার পতন হওয়ার পর থেকেই আত্মগোপনে রয়েছেন।
সেই সুযোগে সাবেক এসজিইডির কর্মকর্তা খায়রুল বাসার তার ইচ্ছামত কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন বলে একাধিক অভিযোগ রয়েছে। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করে কাউকেই পাওয়া যায় নাই। এ কাজের সাবকন্ট্রাক্টর আবদুল্লাহ আল জাদিদ ইরানের কাছে এবিষয়ে জানতে চাইলে তিনি কোন তথ্য ও বক্তব্য দিতে রাজি হননি।
এলজিইডি সিরাজদিখান উপজেলা সাবেক কর্মকর্তা খায়রুল বাসার ও বর্তমান কর্মকর্তা মোঃ আসিফ উল্লাহ এবিষয়ে কোন বক্তব্য দিতে রাজি হননি। তারা জানান বক্তব্য দিতে হলে উর্দ্ধতন কর্মকর্তাদের অনুমতি লাগবে। তাদের অনুমতি ছাড়া কোন বক্তব্য দিতে পারবো না। এ কাজে অনেক দুর্নীতি ও রহস্য জনক বিষয় লুকিয়ে আছে বলে স্থানীয়’রা মনে করছেন। এলজিইডির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করছেন এলাকাবাসী সঠিক তদন্ত করে সঠিক ভাবে কাজ করার দাবী স্থানীয়দের।
অনুসন্ধান রিপোর্টের পর্ব ১