• মঙ্গলবার, ১০ মার্চ ২০২৬, ০৩:৫৩ অপরাহ্ন
শিরোনাম:
অসুস্থ অধ্যাপক মুজিবুর রহমানকে দেখতে হাসপাতালে–অধ্যাপক এবিএম ফজলুল করীম কম্বোডিয়ায় প্রবাসী বাংলাদেশিদের ‘অভিভাবক’ মামুন: মানবতার বন্ধু এখন অপশক্তির চোখের কাঁটা টঙ্গীতে রিয়েল এস্টেট ব্যবসায়ী কামরুজ্জামানকে হত্যাচেষ্টা আধুনিক সংবাদের ২য় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে দোয়া ও ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত হাদির হত্যাকারীদের ১৪ দিনের রিমান্ড জঙ্গল সলিমপুরে যৌথ বাহিনীর অভিযান শুরু সিরাজদিখানের মধ্যপাড়ায় গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যু সিরাজদিখানে মাদক ব্যবসায়ী ইয়াবা ট্যাবলেট সহ গ্রেফতার জুলাই সনদ বাস্তবায়নে টালবাহানা মেনে নেওয়া হবে না: অধ্যাপক এবিএম ফজলুল করীম প্রতিবেশী দেশে আর হামলা করবে না ইরান: প্রেসিডেন্ট

সীতাকুণ্ডে মব-সৃষ্ট হামলায় সাংবাদিক আহত: এক সপ্তাহেও মামলা নেয়নি পুলিশ

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ / ১৩০ পাঠক ভিউ
আপডেট সময় : রবিবার, ২৬ অক্টোবর, ২০২৫

ওসি উদ্ধার করলেন লুটে নেওয়া মুঠোফোন, উদ্ধার হয়নি টাকা ও মানিব্যাগ

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে মব সৃষ্টি করে সন্ত্রাসী আসাদ বাহিনীর হামলায় আহত হয়েছেন সীতাকুণ্ড প্রেসক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও দৈনিক জনকণ্ঠ পত্রিকার সীতাকুণ্ড প্রতিনিধি সাংবাদিক লিটন কুমার চৌধুরী। এ ঘটনায় এক সপ্তাহ পার হলেও পুলিশ এখনো মামলা নেয়নি বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয় সাংবাদিকরা। নেতৃবৃন্দের দাবি, একাধিকবার থানায় মামলার এজাহার দাখিল করলেও পুলিশ তা গ্রহণ না করে ফেরত দিয়েছে। অন্যদিকে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মজিবুর রহমান জানান, “এখনো কোনো অভিযোগ পাইনি, মামলা হয়নি।”প্রেসক্লাব সভাপতি সৈয়দ ফোরকান আবু বলেন, “সীতাকুণ্ডে পেশাদার সাংবাদিকদের ওপর হামলা, অপপ্রচার ও হয়রানি বেড়েই চলেছে। মামলার ভয় দেখিয়ে একটি চক্র পেশাদারিত্বের পরিবেশ নষ্ট করছে।”তিনি সাংবাদিক লিটনের দাখিলকৃত এজাহারটি দ্রুত মামলা হিসেবে রেকর্ড করার আহ্বান জানান। আহত সাংবাদিক লিটন কুমার চৌধুরী বলেন, “আমি নয়জনকে আসামি করে সুনির্দিষ্ট প্রমাণসহ এজাহার দিয়েছি। কিন্তু পুলিশ তা নিচ্ছে না। কেন নিচ্ছে না, সেটা ওসিই ভালো জানেন। আমি এখন মামলা নেওয়ার আশা ছেড়ে দিয়েছি।”তিনি আরও বলেন, “আমি স্বাধীনতা বিশ্বাসী একজন সাংবাদিক। কোনো রাজনৈতিক বলয়ে নেই। কিন্তু সম্প্রতি একটি রাজনৈতিক দলের অনুসারীরা আমার বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচার চালাচ্ছে।”ঘটনার একদিন পর হামলাকারীদের কাছ থেকে ওসি মজিবুর রহমান লুটে নেওয়া মোবাইল ফোন উদ্ধার করে সাংবাদিক লিটনের ভাতিজা সুদীপ্ত চৌধুরীর হাতে তুলে দেন। সুদীপ্ত জানান, “সোমবার রাতে ওসি ফোন করে থানায় যেতে বলেন। পরে আমি গিয়ে ফোনটি নিয়ে আসি। তবে কার কাছ থেকে উদ্ধার হয়েছে, তা জানাননি ওসি।”

তবে সাংবাদিক লিটনের লুটে নেওয়া নগদ টাকা ও মানিব্যাগ এখনো উদ্ধার হয়নি।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, হামলার আগে ‘আসাদ ভাইয়ের সমর্থক’ নামে একটি মেসেঞ্জার গ্রুপে পরিকল্পনার আলাপ হয়। সেখানে আসাদ নামে এক ব্যক্তি লেখেন—
“সীতাকুণ্ড প্রেসক্লাবের অমানুষের বাচ্চা সাংবাদিকদের জন্য কিছুই করতে পারতেছি না। টাকা কামাইতে গেলে তথ্য পাই যায়। ফ্যাসিস্ট হাসিনা পালিয়ে যাওয়ার পর আওয়ামী লীগের দোসর ও হিন্দু সাংবাদিকরা এখনো এলাকায় থাকে কিভাবে?”এর উত্তরে শুভ নামে আরেক সদস্য লেখেন, “কালীপুজোয় লিটনরে দেখছি আসাদ ভাই, তারে কট দিলে কিছু টাকা কামাইতে পারমু।”

স্থানীয় সূত্র জানায়, আসাদ ও শুভ দুজনই স্থানীয় দুটি ভিন্ন রাজনৈতিক দলের অনুসারী।

ঘটনার পর সোমবার রাতে আসাদ তার ফেসবুক পেজে এক মিছিলের ভিডিও পোস্ট করে। তাতে প্রায় ২০-২৫ জন যুবককে ‘আওয়ামী লীগ দালাল সাংবাদিক ধর, ধরে ধরে জবাই কর, ইসকন নিধন কর, সীতাকুণ্ড মুক্ত কর’ ইত্যাদি স্লোগান দিতে দেখা যায়। এছাড়া ‘জামায়াতে ইসলাম সীতাকুণ্ড কুমিরা’ ও ‘জামায়াতে ইসলাম যুব কাফেলা’ নামের একাধিক ফেসবুক পেজ থেকে সাংবাদিক ও প্রেসক্লাববিরোধী পোস্ট দেওয়া হলেও পরে সেগুলো সরিয়ে ফেলা হয়। গত বুধবার রাত ৮টার সময় আহত সাংবাদিক লিটনসহ চার সাংবাদিক থানায় এজাহার দিতে গেলে দেখা যায়, হামলার সাথে জড়িত আসাদ বাহিনীর কয়েকজন তখন থানায় উপস্থিত। এসময় ওসি থানায় ছিলেন না। ফোনে তিনি জানান, অসুস্থতার কারণে চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম শহরে রয়েছেন এবং অন্যদিন আসতে বলেন। পরদিন প্রেসক্লাব নেতৃবৃন্দ পুনরায় থানায় গেলে ওসি মামলা রেকর্ড না করে এজাহার ফেরত দেন।

গত রোববার রাতে সীতাকুণ্ড পৌরসদরের রেলগেট এলাকার নিজ বাড়ির সামনে দাঁড়িয়ে কথা বলার সময় সন্ত্রাসী আসাদুজ্জামান ওরফে আসাদ বাহিনী সাংবাদিক লিটনের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। তারা এলোপাতাড়ি মারধর করে নগদ টাকা, মোবাইল ও মানিব্যাগ ছিনিয়ে নেয়। পরে তাকে টেনে হিঁচড়ে থানার দিকে নিয়ে যায় এবং পুলিশকে গ্রেপ্তারের দাবি জানায়। তবে পুলিশ জানায়, তাঁর বিরুদ্ধে কোনো মামলা নেই। পরে প্রেসক্লাব নেতৃবৃন্দের সহায়তায় লিটনকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণে পরে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।
বর্তমানে তিনি চট্টগ্রাম শহরে আত্মীয়ের বাসায় চিকিৎসা ধীন রয়েছেন। নিরাপত্তাহীনতায় তাঁর পরিবার সীতাকুণ্ডের বাড়ি ছেড়ে থাকতে বাধ্য হয়েছে। সীতাকুণ্ড প্রেসক্লাবের নেতৃবৃন্দ ও স্থানীয় সাংবাদিকরা অবিলম্বে এজাহারটি মামলা হিসেবে রেকর্ড করা, হামলাকারীদের গ্রেপ্তার ও তাদের রাজনৈতিক আশ্রয়দাতাদের বিচারের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

বিস্তারিত...
Link Copied!