• মঙ্গলবার, ০৩ মার্চ ২০২৬, ০৮:২৭ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম:
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা খামেনি নিহত, ৪০ দিনের রাষ্ট্রীয় শোক মুন্সীগঞ্জ প্রেসক্লাবের দ্বি-বার্ষিক নির্বাচন সম্পন্ন সভাপতি আতিকুর রহমান টিপু, সম্পাদক গুলজার হোসেন নির্বাচিত ইরানে হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল নরসিংদীতে কিশোরী ধর্ষণের পর হত্যা : প্রধান আসামি নূরাসহ গ্রেপ্তার ২ ১০ মার্চ পরীক্ষামূলকভাবে ফ্যামিলি কার্ড উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী রূপগঞ্জে ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক দখল মুক্ত করতে উচ্ছেদ অভিযান অমর একুশে বইমেলার উদ্বোধন দেশটাকে জ্ঞানের আলোয় আলোকিত করতে চায় সরকার : প্রধানমন্ত্রী টিউলিপকে গ্রেপ্তারে ইন্টারপোলের মাধ্যমে রেড নোটিশ জারির আদেশ টঙ্গীবাড়ী উপজেলা মাসিক আইনশৃঙ্খলা সভা অনুষ্ঠিত গুণীজনদের হাতে একুশে পদক তুলে দিলেন প্রধানমন্ত্রী

জামালপুরে খায়রুল ইসলামের ওপর পরিকল্পিত হামলা ও লুটপাট

মোঃ জাহিদ হাসান (জামালপুর): / ৬৯ পাঠক ভিউ
আপডেট সময় : বৃহস্পতিবার, ১১ ডিসেম্বর, ২০২৫

মোঃ জাহিদ হাসান (জামালপুর): জামালপুরের মেলান্দহ উপজেলার ১০ নং ঝাউগড়া ইউনিয়নে খায়রুল ইসলাম নামে এক ব্যবসায়ীর ওপর সংঘবদ্ধ নৃশংস হামলা ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় স্থানীয় তিন ব্যক্তি— মামুন, কাইয়ুম (ইদ্রিস ফকিরের ছেলে) ও রেজিয়ার বিরুদ্ধে হত্যাচেষ্টাসহ লুটপাটের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। পরিবার দাবি করছে, হামলাটি সম্পূর্ণ পূর্বপরিকল্পিত এবং খায়রুল ইসলাম’কে মেরে ফেলার উদ্দেশ্যেই এ ঘটনা ঘটানো হয়।

ঘটনা ঘটে বুধবার সন্ধ্যা প্রায় ৬টা ৩০ মিনিটে, যখন খায়রুল ইসলাম বাজারে মরিচ কেনার উদ্দেশ্যে বের হন। অভিযোগ অনুযায়ী, মামুন আগে থেকেই ওঁত পেতে থাকা অবস্থায় হঠাৎ এসে খায়রুলের মাথায় প্রচণ্ড আঘাত করে। শক্ত আঘাতে তিনি রক্তাক্ত হয়ে মাটিতে পড়ে যান। এরপর আরও মারধর ও ধস্তাধস্তি চালানো হয়। খায়রুল ইসলাম মাটিতে পড়ে অসহায় অবস্থায় থাকা অবস্থায় ইদ্রিস ফকিরের ছেলে কাইয়ুম তার কোমরের ব্যাগটি ছিনিয়ে নেয়। ব্যাগটিতে ছিল ২ লাখ ২৫ হাজার টাকা, যা তিনি মরিচ ক্রয়ের জন্য সঙ্গে নিয়েছিলেন।

এই টাকা লুটের ঘটনা এলাকাজুড়ে চরম ক্ষোভ ও উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। হামলার শব্দ শুনে খায়রুলের মা এগিয়ে গেলে তাকেও ছাড় দেওয়া হয়নি। অভিযোগ রয়েছে, রেজিয়া নামের এক নারী খায়রুলের মায়ের গলা থেকে এক ভরি স্বর্ণের চেইন টেনে ছিনিয়ে নেয়। চেইন নেওয়ার সময় রেজিয়া তার হাতে কামড় দেয়, এতে তিনি গুরুতর ব্যথা ও রক্তক্ষরণে কষ্ট পান।

জামালপুর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি, পরে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ

হামলার পর এলাকাবাসী গুরুতর অবস্থায় খায়রুল ইসলামকে দ্রুত জামালপুর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসায় তার মাথার আঘাত ও রক্তক্ষরণ নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করা হলেও অবস্থা জটিল হওয়ায় চিকিৎসক’রা উন্নত চিকিৎসার জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠিয়ে দেন। বর্তমানে তিনি সেখানে চিকিৎসাধীন এবং শারীরিক অবস্থার অবনতি রোধে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।

খায়রুল ইসলামের স্বজনরা দাবি করেন,“তারা প্রথমে মাথায় বাড়ি দিয়ে খায়রুল’কে অচল করে দেয়, পরে টাকা ও চেইন লুট করে। তিনজন একসাথে মেরে ফেলার পরিকল্প নাই করেছিল।”পরিবারের শোক- আতঙ্কের পাশাপাশি এলাকাবাসীর মধ্যেও সৃষ্টি হয়েছে তীব্র ক্ষোভ।

স্থানীয়’রা জানান, দিনের বেলায়—এমনকি সন্ধ্যাকালীন প্রকাশ্য রাস্তায়—এ ধরনের তাণ্ডব একদিকে আইন শৃঙ্খলার প্রতি প্রশ্ন তোলে, অন্যদিকে সাধারণ মানুষের মাঝে ভয়ভীতি ছড়িয়ে দেয়। পূর্বেও এই ধরনের লোকজন বিভিন্ন বিশৃঙ্খল কাজে জড়িত ছিল বলে অভিযোগ রয়েছে।

গ্রেপ্তার ও তদন্ত দাবি- ভুক্তভোগীর পরিবার ও এলাকা বাসী ঘটনাটির সুষ্ঠু তদন্ত, জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার, লুট হওয়া টাকা ও স্বর্ণালঙ্কার উদ্ধারের দাবি জানিয়েছেন। সেই সঙ্গে ভবিষ্যতে এ ধরনের অপরাধ দমনে কঠোর নজরদারি বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন এলাকাবাসী।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

বিস্তারিত...
Link Copied!