এ যেন দুর্নীতির খামার - বিডিসি ক্রাইম বার্তা
ArabicBengaliEnglishHindi

BD IT HOST

এ যেন দুর্নীতির খামার


bdccrimebarta প্রকাশের সময় : সেপ্টেম্বর ২১, ২০২২, ১:১২ অপরাহ্ন / ৮২
এ যেন দুর্নীতির খামার

স্টাফ রিপোর্টারঃ- প্রাণি সম্পদ অধিদপ্তরে ঘটছে অবিশ্বাস্য সব দুর্নীতি- অনিয়মের ঘটনা। ছাগলের খাদ্য কেনার টাকা ও চলে গেছে কর্মকর্তাদের হরিরাম পেটে। বরাদ্দের অর্ধেক ও জোটছে না প্রাণীদের কপালে। ছাগল প্রজনন কেন্দ্রের শতাধিক ছাগলকে রুগ্ন দেখিয়ে বিক্রি করে আবার সেই ছাগল কেনার ঘটনা ও ঘটেছে ওই খামারে। একই ছাগল সরকারি কাগজপত্রে তিনবার কেনা- বেচা হলে ও খামারেই রয়ে গেছে সেই হতভাগ্য ছাগল।

মাঝখানে সরকারের কোটি টাকা যেন হাওয়ায় মিশে গেছে। আবার ছাগলের খামারের অবকাঠামো উন্নয়নের কাজ না করেই ঠিকাদারকে দিয়ে মোটা অংকের বিল উঠিয়ে পুরো টাকাই নিজের করে নিয়েছেন প্রকল্প পরিচালক শরিফুল হক। প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা সমরেশ কুমার সরকার, উপ- সহকারী প্রকৌশলী ফজলে রাব্বী ও উপ- সহকারী প্রকৌশলী শহিদুল ইসলামের মধ্যে উক্ত টাকার ভাগ- বাটোয়ারা বুঝিয়ে দিলে ও ঠিকাদার রুপক এন্টার প্রাইজের সত্ত!অধিকারী সাঈদ আহম্মেদ কে বানিয়েছেন ছাগল খামারের বলির পাঠা। তবে তিনি পাঠা নয় সিংহের গর্জন দিয়ে দুদকের কাছে এসব দুর্নীতির অভিযোগ দায়েরের প্রস্তুতি নিয়েছেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, প্রাণী সম্পদ অধিদপ্তরাধীন সাভারে ছাগলের খামারের অবকাঠামো উন্নয়নে যে সব কাজ হয়েছে তাতে খুবই নিম্ন- মানের নির্মাণ সামগ্রী ব্যবহার করা হয়েছে। অবকাঠোমো নির্মানের জন্য কোটেশন দিয়ে সেই অনুযায়ী ঠিকাদারকে দিয়ে কাজ না করিয়ে শুধুমাত্র ঠিকাদারের কাগজপত্র ব্যবহার করে লাখ লাখ টাকা আত্মসাৎ করেন প্রকল্পের পরিচালক শরিফুল হক অনিয়মের মাধ্যমে বিল উত্তোলনের ক্ষেত্রে তাকে সহযোগিতা করে ভাগের টাকা হাতিয়ে নেন প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা সমরেশ কুমার সরকার, উপ- সহকারী প্রকৌশলী ফজলে রাব্বী ও উপ- সহকারী প্রকৌশলী শহিদুল ইসলাম সিন্ডিকেট।

সাভারের সরকারি ছাগল উন্নয়ন খামারের অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের নির্মান কাজের সকল শর্তাবলী মেনে টেন্ডার পান ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান রুপক এন্টারপ্রাইজ। ফলে ১৭ ডিসেম্বর ও ২০১৯ তারিখে উক্ত ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানকে টেন্ডারের কার্যাদেশ প্রদান করেন প্রকল্প পরিচালক শরিফুল হক। কার্যাদেশ অনুযায়ী প্রতিষ্ঠানটি কাজ করতে গেলে প্রকল্প পরিচালক শরিফুল হক তার কথা মতো কাজ করার নির্দেশ দেন। অন্যথায় তার কাজের বিল আটকে দেয়ার ঘোষনা দেন। এতে বাধ্য হয়ে তার কথা মতো রুপক এন্টারপ্রাইজ প্রকল্পের কোন কাজ না করেই ৩ লাখ ৪১ হাজার ৯ শ ৫৫ টাকার বিল ভাউচার জমা দেন।পরবর্তীতে এই প্রকল্পের পরিচালক শরিফুল হক ও প্রানী সম্পদ কর্মকর্তা সমরেশ কুমার সরকার, উপ- সহকারী প্রকৌশলী ফজলে রাব্বী এবং উপ- সহকারী প্রকৌশলী শহিদুল ইসলাম একে অপররের সহযোগিতায় ওই বিল উত্তোলন করে নিজেদের মধ্যে ভাগ- বাটোয়ারা করেন।

ছাগলের জন্য ৩ টি শেড নির্মাণের ১৪ লাখ টাকা রিভাইজ করা হয়। কিন্তু সেই রিভাইজের কোন কাজনা করেই বিল উত্তোলন করে নিলেও ওই শেডের অস্থিত্ব খামারে খুজে পাওয়া যায়নি। কাজনা করেই বৈদ্যুতিক কাজের বিলও পরিশোধ করেন ২ লাখ ৯৪ হাজার ৮৬ টাকা। অনুসন্ধানে আরো জানা গেছে, প্রাণী সম্পদ অধিদপ্তরের ওই প্রকল্প পরিচালক শরিফুল হক, প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা সমরেশ কুমার সরকার, উপ- সহকারী প্রকৌশলী ফজলে রাব্বী এবং সহকারী পরিচালক প্রশাসন শহিদুল ইসলাম সিন্ডিকেট করে পছন্দের ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রকল্পের কাজনা করিয়েই বিল পরিশোধ করেন।

এসব কর্মকর্তা একচ্ছত্র ভাবে অধিদপ্তরের সব কিছু নিয়ন্ত্রণ করছেন। প্রাণি সম্পদ অধিদপ্তরকে এরা দুর্নীতির খামারে পরিনত করেছেন বলে জানান সংশ্লিষ্টরা। এ ব্যাপারে প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা সমরেশ কুমার সরকার সব কিছু অস্বীকার করে প্রকল্প পরিচালক শরিফুল হকের সাথে কথা বলার পরামর্শ দেন। তবে একাধিকবার মুঠো ফোনে চেষ্টা করলেও প্রকল্প পরিচালক শরিফুল হক ফোন রিসিভ
করেন নি।#

bdccrimebarta